উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে টানা তৃতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে পর্তুগাল। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর দিনগত রাতে অনুষ্ঠিত ‘এ’ লিগের চার নম্বর গ্রুপের এই ম্যাচে ডেনমার্কের মাঠে স্বাগতিকদের ৪-২ গোলে পরাজিত করে তারা। এই জয়ের ফলে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পর্তুগাল এখন গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। ম্যাচটিতে বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও পর্তুগাল ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। পুরো ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ১৯টি শট নেয়, যার মধ্যে ১০টি শটই ছিল গোলমুখে। বিপরীতে ডেনমার্ক ১২টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে মাত্র তিনটি। স্কোরলাইনের মতো ম্যাচের সার্বিক পরিসংখ্যানেও পর্তুগিজদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখা গেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের লড়াই ছিল বেশ জমজমাট। ১৩তম মিনিটে গোলবার থেকে ফিরে আসা বল ডেনমার্কের রক্ষণভাগ ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে স্বাগতিকরা সমতায় ফিরতে দেরি করেনি। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাঁ দিকে সতীর্থের কাছ থেকে পাওয়া বলে জোরালো শটে ডামসগার্ড চমৎকার গোল করেন। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ দশ ম্যাচে ষষ্ঠ গোল। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় পর্তুগাল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। ম্যাচের প্রথমার্ধে জোয়াও কান্সেলো পর্তুগালকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্রুতই সমতা ফেরান মিকেল ডামসগার্ড। তবে গোল হজমের ঠিক পরপরই দুর্দান্ত নৈপুণ্যে গনসালো রামোস আবার এগিয়ে দেন পর্তুগালকে।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় ছন্দ ধরে রেখে পর্তুগাল আক্রমণের গতি বাড়ায়। ৬২তম মিনিটে তারা ব্যবধান বাড়ানোর একটি দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮১তম মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন ফেলিক্স। পেদ্রো নেতোর বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ছয় মিনিট পরেই ডালোটের বাড়ানো পাস ডি-বক্সে পেয়ে ডান পায়ের দারুণ শটে তিনি বল জালে জড়ান। এই গোলটি দলের জয় ও পুরো তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই পর্তুগাল শিবিরকে কেন্দ্র করে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে কোচের দ্বন্দ্ব গণমাধ্যমে বড় জায়গা করে নিয়েছিল এবং এই পরিস্থিতির জেরে ক্যাম্প ছাড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। সব প্রতিকূলতা জয় করেই মাঠের ফুটবলে নিজেদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখল দলটি। দুইজনের দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের ক্যাম্পই ছাড়েন রোনালদো। মাঠের বাইরের এসব বিতর্ক প্রভাব ফেলেনি মাঠের খেলায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি ডেনিশরা।