রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবের মধ্যে ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাকিবুল পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন। এরপর রাকিবুল স্থান ত্যাগ করলে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে আহসান হাবিব দলবল নিয়ে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট হাতে সেখানে উপস্থিত হন। আহসান হাবিব রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছেন। ছাত্রলীগ, শিবির, বাম সব মিলেও এক আহসান হাবিবের সামলাতে পারবিনা, টোটাল ছাত্রদলের কথা বাদই দিলাম।”। আজকে সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পরিবহন মার্কেটে আছি।
উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবিবের দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মারকে অভিযুক্ত করে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয় এবং ডিএনএ টেস্টের দাবি তোলা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় রাকিবুল ইসলাম মন্তব্য করেন, “কার খুনের আসামী করলি? ক্লিয়ার কর। এগুলো ছাত্রলীগের বয়ান।” সেখানে তিনি লেখেন, “খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, মববাজ, নিয়োগ বাণিজ্যকারী, অর্থ আত্মসাৎকারী কুলাঙ্গার সালাউদ্দিন আম্মারের ডিএনএ টেস্টের দাবি জানাচ্ছি। ওর হিম্মত থাকলে ও প্রমাণ করুক সে ভার্জিন।”। সৎ সাহস থাকলে লোকেশন বল তোর দেখা যাবে কে কার। এ সময় তিনি ফেসবুকে একাধিক আপডেট দিতে থাকেন।
এই মন্তব্যের পর রাকিবুলকে মেসেঞ্জারে কড়া ভাষায় হুমকি দেন আহসান হাবিব। তিনি রাকিবুলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লেখেন, “আমি একা যতো ছাত্রলীগ পিটায়ে পুলিশে দিছি তোর বাপ আম্মার আর তোর দাদা শফিকের দল জামাত শিবির সারাদেশেও অতো ছাত্রলীগ পিটায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে একমাত্র মামলার বাদী আমি।” এর জবাবে রাকিবুল পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকার ঘোষণা দেন এবং জানান, কারো হুমকির কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না। আমি নিশ্চিত সে বহু নারীকে ভয় দেখিয়ে, ফাঁদে ফেলে অথবা লোভ দেখিয়ে বহুবার ধর্ষণ করেছে। যদি পারে কেউ রাকিবের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক।
নিজের অবস্থানের বিষয়ে আহসান হাবিব দাবি করেন, রাকিবুল ইসলাম তাঁর মা-বোনকে জড়িয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকার ঘোষণা দিলেও অসুস্থ থাকায় তাঁর পোস্টটি দেখতে পারিনি। পোস্টটি দেখার ২০ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে এসে তাঁকে পাইনি। আমি এখন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করব।”
এদিকে রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমি সেখানে সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলাম। বিকাল ৫টা পর্যন্ত থাকার পরও সে আসেনি। আমি আসার পর জানতে পারলাম তারা এসেছে। ছাত্রদলের পুলাপান হকিস্টিক নিয়ে এসেছে, তারা হয়তো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রেখে যাওয়া দায়িত্ব পালন করছে।”
সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমি এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানি না। ওদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা দেখছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে জানিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “বিকালের পর থেকে এ বিষয়টা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। এ বিষয়টা আমরা প্রশাসন জেনেছি। আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে নিভৃত করার এবং তাদেরকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।”