আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। এই ফলাফলের ফলে বাংলাদেশের জন্য ফাইনালে ওঠার পথ এখন কিছুটা প্রশস্ত হয়েছে। যদিও জিম্বাবুয়ে জিতলে বাংলাদেশের কাজ সহজ হতো, তবে এই বড় ব্যবধানের পরাজয় তাওহিদ হৃদয়দের জন্য টিকে থাকার লড়াইয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এখন ফাইনালে যেতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানির এলসি বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। তবে জিম্বাবুয়ে বড় ব্যবধানে হারাতেও আশা টিকে আছে তাওহিদ হৃদয়দের। আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে বিধ্বস্ত করেছে আফগানিস্তান। ডেথ ওভারে ভালো বোলিং করে আফগানদের তিনশর নিচে আটকায় জিম্বাবুয়ে।
আগে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানিস্তান নির্ধারিত ওভারে ২৯৪ রানের বড় পুঁজি সংগ্রহ করে। দলের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকুল্লাহ আতাল। ইব্রাহিম ৯৬ বলে ৯০ রান করেন এবং আতাল ১১০ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন। তবে ইনিংসের শেষ দিকে জিম্বাবুইয়ান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আফগানিস্তান তিনশ রানের গণ্ডি পার করতে পারেনি। সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে সিকান্দার রাজার দল কখনোই জয়ের লড়াইয়ে ছিল না। ফজলহক ফারুকি ও এএম গাজানফারের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৪৩ রানেই জিম্বাবুয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আগের ম্যাচের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ক্রেইগ আরভিনকে একাদশে না রাখায় দলটির মিডল অর্ডার বেশ ভুগেছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে রোনালদোকে সাজা দিল পর্তুগাল।
জিম্বাবুয়ের মূল লক্ষ্য ছিল অন্তত ১৯৬ রান সংগ্রহ করা, যা তাদের নেট রানরেটের সুবিধায় ফাইনালে পৌঁছে দিতে পারত। কিন্তু তারা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ৮০ বল খেলে ৪৮ রান করেন এবং রায়ান বার্ল ৬৩ বলে ৩১ রান করে রশিদ খানের শিকার হন। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায়। গেন্ডারিয়ার সেই ‘মাদকের আস্তানায়’ যৌথ অভিযান, ১৫ জনের কারাদণ্ড। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তারা গুটিয়ে যায় ১৩৬ রানে। তবে ১৯৬ রান করতে পারলে হেরেও নেট রানরেটের সুবিধায় ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যেত জিম্বাবুয়ের। জেতার চিন্তা বাদ দিয়ে অন্তত ১৯৬ রান করার দিকেই যেন ছিল তাদের ঝোঁক।
বর্তমানে নেট রানরেটের হিসাবে জিম্বাবুয়ের অবস্থা (-০.৫৯০), যেখানে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর পর তাদের রানরেট ছিল (+১.৯৮০)। বাংলাদেশকে প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানে হারিয়ে নেট রানরেট (+১.৯৮০) বাড়িয়ে নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। পরের ম্যাচে পুরো বিপরীত অবস্থায় পড়ে বিশাল হারে এখন তাদের নেট রানরেট (-০.৫৯০)।
এখন সিরিজের ভাগ্য ঝুলে আছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার পরবর্তী ম্যাচের ফলের ওপর।
আফগানিস্তান জয়ী হলে জিম্বাবুয়ে ফাইনালে উঠবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জিতলে রানরেটের হিসাবে নির্ধারিত হবে ফাইনালিস্ট। অর্থাৎ জিম্বাবুয়েকে টপকে যেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।